নন্দিতা ভাটনগর স্মৃতিচারণ
শুক্তি দত্তর কলমে ..
নন্দিতা ভাটনগর আমার বড় পিসীমার নাতনী, সম্পর্কে আমার ভাইঝি কিন্তু বয়সে বড় বলে আমি ওকে বেণুপিসী বলতাম। জন্ম এখনকার বাংলাদেশের বগুড়া শহরে। ওর বাবা ডাক্তার ছিলেন। ছোট বেলায় কখনো বাবার কাছে কখনো ঠাকুমার কাছে কেটেছে। পড়াশোনা কলকাতার বেথুন স্কুলে ও কলেজে। পরে সায়েন্স কলেজে সত্য প্রকাশের সাথে পরিচয় ও বিয়ে। বিয়ের পরেই ওরা চলে আসে ক্যানাডায় ষাট দশকের প্রথম দিকে। ক্যানাডায় বহুকাল ডায়েটিশিয়ান-এর কাজ করেছিল। সাথে সাথে বাংলা চর্চ্চা, পাশের ভদ্রলোকটিকে একজন খাঁটি বাঙালী বানিয়ে নিয়েছিল। নিয়মিত বিভিন্ন বাংলা ম্যাগাজিনে লিখতো আর বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করাতো। খুব ভাল রবীন্দ্রসংগীত গাইতো এককালে। ও নিঃসন্তান ছিল। একটি ইউরেশিয়ান মেয়ে দত্তক নিয়ে তার নাম রেখেছিল কোনিনা, মানে অনুর কণামাত্র।
খুব হাসিখুশি মজাদার মানুষ ছিল। আমাদের হিউস্টনে সাহিত্য সভা ও প্রবাস বন্ধুর কথা শুনে খুব উৎসাহিত হয়ে যোগ দিয়েছিল। সেই সূত্রে ভজেন্দ্র, মালবিকা এদের সাথে আলাপ। কোন কিছু নিয়ে অনুযোগ ছিল না। কয়েকবছর আগে বাড়ী বিক্রী করে বৃদ্ধাশ্রমে চলে আসে। গতবছর সত্যপ্রকাশ পরলোক গত হলেন। তারপর খুব একলা বোধ করত।
পয়লা মে আমার বেণুপিসি সব ছেড়ে চলে গেল। জানি কেউ চিরকাল থাকে না। কিন্তু আমার খুব মন কেমন করে, আর কোনদিনও কথা বলা হবে না।