সহাবস্থান চাই:
শ্রাবণী রায় আকিলার কলমে ..
সকালে বিকেলে দরজা খুলে বাইরে দাঁড়ালে মনে হচ্ছে পৃথিবী ” এতদিন সয়ে সয়ে এইবারে মারবো ” বলে একদম বুঝেশুনে এসব প্ল্যান করেছে। না হলে এমন করে সবটুকু অমৃত নিজে উপভোগ করে আমাদের জন্য শুধু বিষটুকু রাখে ?
কি চাই দাদা বলুন ! দিনে সোনা গলানো রোদ, শেষ বিকেলে ফুরফুরে হাওয়া, হাসিখুশি গাছ গাছালি, সন্ধ্যের মুখে কমলা আকাশ,মায় ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজটা পর্যন্ত্ কোত্থেকে রোজ রাতে এসে জুটেছে । তাই দেখে লোভে লোভে আমি জোনাকি খোঁজাও শুরু করলুম। সে বোধহয় বছর পঁয়ত্রিশ আগে জোনাকিরা আমার সাথে তাদের শেষ সাক্ষাতে দেখিয়েছিলো কি করে অন্ধকার কেটে কালো বেনারসী বানাতে হয়। যদিও জোনাকি টোনাকি কিছু দেখলুম না ,কিন্তু অন্ধকার গাঢ় হলেই ওপরে তাকিয়ে যা দেখছি এবং এতকাল পরে এতো স্পষ্ট দেখছি যে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করছে , “হাউ আই ওয়ান্ডার হোয়াট ইউ আর !” সব জোনাকি যেন ওপরে উঠে আকাশে গিয়ে বাসা বেঁধেছে। এমন কাস্টমাইজড দিনে আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া ! “পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি?” ….ঠ্যাং নাচাচ্ছে সারাদিন শুধু কাঠবিড়ালি? কেন কেন কেন?
আজ আবার আমাদের পাড়ার পেছন দিকে এক দঙ্গল হরিণ এসে হাজির। অনেকেই দেখেছে । ব্যস ! ফটো ফটো ফটো ! আমি আবার কি কুক্ষনে আজই ঠিক করেছিলাম,হাঁটতে গেলে আর ফোন নেবো না সঙ্গে। যাই হোক এহেন অনন্য সুন্দর প্রকৃতি আমাদের সহ্য করতে হবে চম্বলের ডাকাতের মত সাজে? ঠিকই বলেছেন শোধ শোধ ! এসব “পোকিতির পতিসোধ !!! ওই সমুদ্দুরের মুখে অমন পেলাস্টিক গুঁজে দেওয়া ? পৃথিবীর যেকোনো পশুপাখী দেখলেই অমন “মাংসের গন্ধ পাঁউ” বলে দৌড়ে যাওয়া ? প্রকৃতি মরতে মরতে ক্ল্যাইম্যাক্সে এসে একেবারে ঘুরে দাঁড়ালো বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো না ?গুরু পাপে একটু লঘু দন্ড দিলে হতো না ?
এবারকার মত একটু “বল আর কখনো এরকম করবি ?” বলে গোটা মানব জাতিকে একবার কানধরে ওঠবস করিয়ে ছেড়ে দিলেই হতো না ? কথা দিচ্ছি , ভালো হয়ে যাবো। এই তো পাখির ডাক শোনা শিখলুম,ফুলের দিকে তাকাতে শিখলুম , জীবন মানে শুধুই ছোটা না শিখলুম,বোর্ড গেম খেলা শিখলুম,ফ্রিজের কোনায় কোনায় খাবার পচাতে নেই ..অপচয় করা খারাপ শিখলুম ,জীবনে গাড়ী বাড়ী কিচ্ছু না ..শিখলুম। এই তো মাস খানেক টাইম আউট,ডিটেনশন সব দিলেন আমাদের।
এবার ভাইরাসটাকে উঠিয়ে নিন দয়া করে ধরিত্রী দেবী । আপনি সুস্থ ভাবে বাঁচার ইচ্ছা পোকাস করেছেন। আমরাও কচ্চি। এবার একটা মিটমাট করিয়ে নিন। আমরা সান্তিপুন্ন সহাবস্থান চাই।
ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া: কৃতজ্ঞতা স্বীকার